নিজস্ব প্রতিবেদক : ভেনেজুয়েলায় মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের সামরিক আগ্রাসনের প্রতিবাদে রাজশাহীতে নাগরিক সমাজের উদ্যোগে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (৭ জানুয়ারি ২০২৬) সকাল ১১টায় নগরীর সাহেব বাজার জিরো পয়েন্টে এই কর্মসূচি পালিত হয়। এতে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ছাত্রসংগঠনের নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক, আইনজীবী ও পরিবেশ-আন্দোলন কর্মীরা অংশ নেন।
বরেন্দ্র ইয়ুথ ফোরামের সভাপতি ও পরিবেশ-আন্দোলন কর্মী আতিকুর রহমান আতিকের সঞ্চালনায় এবং লেখক-গবেষক মাহবুব সিদ্দিকীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তারা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক আগ্রাসন ও আধিপত্যবাদী নীতির তীব্র সমালোচনা করেন।
সমাবেশে বক্তব্য দেন—বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের রাজশাহী মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক নাদিম সিনা, গণসংহতি আন্দোলন রাজশাহী জেলার আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মুরাদ মোর্শেদ, ছাত্র ফেডারেশনের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সংগঠক তাসনুভা আমিন, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) রাজশাহী জেলার আহ্বায়ক আলফাজ হোসেন ও সদস্য সচিব সামসুল আবেদীন ডন, বাংলাদেশ রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন রাজশাহী জেলার সভাপতি অ্যাডভোকেট হোসেন আলী পিয়ারা ও বিভাগীয় সমন্বয়ক মাহমুদ জামাল কাদেরী, নয়া গণতান্ত্রিক গণমোর্চার সহ-সভাপতি শামীম পারভেজ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার প্রফেসর ড. ইফতিখারুল আলম মাসউদ, বাংলা বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর সৌভিক রেজা, ইতিহাস বিভাগের শিক্ষক ড. গোলাম সারোয়ার সুজন, জজকোর্ট রাজশাহীর আইনজীবী অ্যাডভোকেট হাবিবুর রহমান, আদিবাসী যুব পরিষদ রাজশাহী জেলার সভাপতি উপেন রবিদাস এবং সাংস্কৃতিক কর্মী ওয়ালীউর রহমান বাবুসহ আরও অনেকে।
বক্তারা বলেন, ভেনেজুয়েলার ওপর মার্কিন আগ্রাসন কেবল একটি দেশের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের ঘটনা নয়—এটি বিশ্বমানবতার জন্যও মারাত্মক হুমকি। পরিকল্পিতভাবে নয়া-উপনিবেশ সৃষ্টি, অর্থনৈতিক অবরোধ ও সামরিক হুমকির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের বিভিন্ন সম্ভাবনাময় দেশকে শোষণের চক্রে আবদ্ধ করছে। দুঃখজনকভাবে, এমন আগ্রাসনের বিরুদ্ধে জাতিসংঘসহ তথাকথিত বিশ্বমানবতার ধারকরা নীরব ভূমিকা পালন করছে।
সমাবেশে আরও বলা হয়, ভেনেজুয়েলার পর কিউবা, মেক্সিকো, কলোম্বিয়া, গ্রিনল্যান্ড ও ইরানের মতো দেশগুলোও মার্কিন একক আধিপত্যের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হতে পারে। বক্তারা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, বাংলাদেশও এই আগ্রাসী ভূ-রাজনৈতিক কৌশলের বাইরে নয়; বিশেষ করে পায়রা সমুদ্র বন্দর ও সেন্ট মার্টিন দ্বীপকে ঘিরে বিদেশি আধিপত্য বিস্তারের প্রচেষ্টা দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকিস্বরূপ।
বক্তারা যুদ্ধ, অবরোধ ও হুমকির রাজনীতি প্রত্যাখ্যান করে অবিলম্বে সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসন বন্ধের দাবি জানান এবং ভেনেজুয়েলার জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের আহ্বান জানান। একইসঙ্গে, সকল ধরনের আধিপত্যবাদী আগ্রাসনের বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাপী সংহতি গড়ে তোলার পাশাপাশি নিজ দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তারা।
সমাবেশ শেষে নাগরিক সমাজের উদ্যোগে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি সাহেব বাজার জিরো পয়েন্ট থেকে শুরু হয়ে মনিচত্বর ও গণকপাড়া প্রদক্ষিণ করে বাটার মোড়ে গিয়ে শেষ হয়।



















