নিজস্ব প্রতিবেদন: রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) শাহমুখদুম থানায় সাধারণ মানুষ যেমন বিড়ম্বনায় পড়ছেন, তেমনি সাংবাদিকরাও ন্যায়বিচার ও সেবা পেতে গিয়ে হয়রানির শিকার হচ্ছেন। এমনকি সাংবাদিক নিজের নিরাপত্তা চেয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে গেলেও তা গ্রহণ না করার অভিযোগ উঠেছে।
২৮ আগস্ট দুপুরে জাতীয় দৈনিক গণমুক্তি পত্রিকার ব্যুরো প্রধান মাজহারুল ইসলাম চপল নিজের নিরাপত্তা চেয়ে থানায় জিডি করতে গেলে নিরাশ হয়ে ফিরে আসেন। অভিযোগ রয়েছে, থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাছুমা মুস্তারী জিডি গ্রহণ না করে বিষয়টি মীমাংসা করতে বলেন।
এর আগে, ২৬ আগস্ট রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের এক জমির নিলাম সংক্রান্ত সংবাদ সংগ্রহে গেলে স্থানীয় এক প্রতারক ও দালালের হাতে সাংবাদিক চপল হুমকি ও গালিগালাজের শিকার হন। এসময় আরেক সাংবাদিকের মোবাইল ফোন ভেঙে ফেলার ঘটনাও ঘটে। এসব ঘটনার পর থেকেই নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছিলেন সাংবাদিক চপল। তাই তিনি শাহমুখদুম থানায় জিডি করতে গেলে ওসি তা নিতে অস্বীকৃতি জানান বলে অভিযোগ।

শাহমুখদুম থানার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই ইন্সপেক্টর মাছুমা মুস্তারী নিজেকে “প্রভাবশালী” হিসেবে উপস্থাপন করছেন বলে একাধিক সাংবাদিক অভিযোগ করেছেন। ২৬ আগস্ট রাতে তিনি প্রকাশ্যে বলেন— “সাংবাদিকরা কে কেমন, আমার জানা আছে। আমার কাছে ডকুমেন্টস রয়েছে, চাইলে সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারি।”
সাংবাদিকদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষও ওসির বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন। থানায় আসা ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, সহযোগিতা করার পরিবর্তে ওসির কাছ থেকে উল্টো বিরূপ আচরণ শুনতে হয় তাদের। এতে জনগণ হতাশ হয়ে পড়ছে এবং ন্যায়বিচার পাওয়া আরও কঠিন হয়ে যাচ্ছে।
ভুক্তভোগী সাংবাদিক মাজহারুল ইসলাম চপল বলেন,“২৬ তারিখের ঘটনার পর থেকে আমাকে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। প্রতারক আক্তার আমার ক্ষতি করতে পারে। তাই নিজের নিরাপত্তা চেয়ে বৃহস্পতিবার থানায় জিডি করতে গেলে ওসি মাছুমা মুস্তারী সেটি না নিয়ে মীমাংসার চাপ প্রয়োগ করেন। তিনি বলেন, রাতে আপনাদের সিনিয়র সাংবাদিকদের সাথে কথা হয়েছে, এই বিষয় নিয়ে বাড়াবাড়ি করার দরকার নেই। আপনার জিডি আমি নিতে পারবো না।”
অভিযোগের বিষয়ে শাহমুখদুম জোনের উপ-সহকারী পুলিশ কমিশনারের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, “এমন অভিযোগের ব্যাপারে আমার জানা নাই। আপনি বললেন, আমি ওসির সাথে কথা বলছি। সাংবাদিকের জিডি না নেওয়ার কোনো নির্দেশনা আমি দেইনি। থানায় সবাই সেবা পাবে।”
পরে আরএমপি’র মিডিয়া মুখপাত্রের সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।


















