সম্পাদকীয়:
সাংবাদিকতা একটি জাতির বিবেক। এই পেশার দায়িত্ব হলো সত্যের পক্ষে দাঁড়ানো, দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া এবং জনগণের কণ্ঠস্বরকে তুলে ধরা। কিন্তু যখন সাংবাদিকতার নাম ভাঙিয়ে সুবিধাবাদীরা রাজনৈতিক সন্ত্রাসের ছায়ায় নিজেদের রক্ষা করে, তখন প্রশ্ন উঠে—এই পেশা কি আর সম্মানজনক থাকে?
রাজশাহীতে কিছু সুবিধাভোগী সাংবাদিকের মুখোশ আজ খুলে যাচ্ছে।
যারা বিগত স্বৈরাচারী শাসনের সময় আওয়ামী লীগের কথামতো কাজ করে গেছে, জনগণের বাড়ি-জমি দখলে সহায়তা করেছে, চাঁদাবাজি থেকে শুরু করে মাদক ব্যবসায়ী, জুয়ার বোর্ড, এমনকি হোটেল ফুটপাত থেকেও মাসোয়ারা তুলেছে—তারা এখন অন্য রঙে রঙিন হয়ে আবারও মাঠে নেমেছে। ৫ আগস্টের আন্দোলনের সময় যারা ছাত্র হত্যায় নাম জড়িয়েছে, মামলায় অভিযুক্ত হয়ে পলাতক ছিল—আজ তারাই ফিরে এসে বিএনপি ও তার অঙ্গসংগঠনের ছায়ায় আবার “সাংবাদিক” হয়ে উঠেছে।
তাদের কাজের ধরনও পাল্টায়নি—শুধু মুখোশ বদলেছে।
যারা এক সময় বিএনপি-জামায়াতের কর্মীদের চাঁদা না পেলে পুলিশে ধরিয়ে দিত, আজ তাদের নিয়েই “সুনামি সংবাদ” তৈরি করছে। যাদের কথায় বিগত সময়ে ছাত্র – জনতা, বিএনপি, জামাত কর্মী আটক হতো, এখন তারাই ওদের আন্দোলনের সংবাদে “গণতন্ত্র” শব্দটি জুড়ে দিয়ে নয়তো তাদের বিভিন্ন অনুষ্ঠানের তেল যুক্ত কথা লিখে নিজেকে নায়ক বানাতে চাইছে।
৫ আগস্টের আগে রাজশাহীতে যে নিপীড়ন, ধরপাকড়, এমনকি হত্যার ঘটনা ঘটেছে—সেই অপরাধে এসব সুবিধাবাদী সাংবাদিকদেরও অংশীদারিত্ব অস্বীকার করা যায় না। তারা শুধু লীগের শুনামে কলম নয় —লাঠি-সোটা আর বিরিয়ানি রান্নার দায়িত্বেও ছিল। কিছু সাংবাদিকের অফিস ছিল আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীদের “স্টোর রুম”। সকালে লাঠি ফেরত দেওয়া হতো, রাতে সরবরাহ চলত।
এই সাংবাদিকদের অনেকেই এখন নিজের অতীত আড়াল করে সাংবাদিক সংগঠনের পেছনে লুকিয়ে, কোনো কোনো রাজনৈতিক নেতা বা গোষ্ঠীর ছায়ায় নিজেদের আবার প্রতিষ্ঠিত করতে চায়। কিন্তু প্রশ্ন হলো—এই সুবিধাবাদী, মুখোশধারী, চরিত্রহীন লোকেরা আবার যদি গণমাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করে, তবে জনগণের স্বার্থ কে রক্ষা করবে?
এখন সময় এসেছে—সাংবাদিকতা পেশা থেকে মুখোশধারীদের আলাদা করার।
আমাদের দরকার সাহসী, নিরপেক্ষ, সত্যনিষ্ঠ সাংবাদিক; দরকার কলমের যোদ্ধা, তোষামোদকারীদের নয়।
✍️ সম্পাদক
দৈনিক সকালের বুলেটিন


















